মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একমাত্র গুচ্ছ ভাস্কর্য জবিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ১২:১৭ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ শনিবার
সংগৃহীত ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে গণহত্যার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশের একমাত্র গুচ্ছ ভাস্কর্য ‘৭১ এর গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’।
ভাস্কর্যটির নাম ‘৭১ এর গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরীহ বাঙালিদের ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সেই কালরাতের নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গুচ্ছ ভাস্কর্যটি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটক দিয়ে ভিতরে ঢুকলেই দেখা যায় শান্ত চত্বরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ভাস্কর্যটি। এটি তৈরি করেছেন খ্যাতনামা শিল্পী ভাস্কর রাসা। সহকারী ভাস্কর হিসেবে ছিলেন রাজিব সিদ্দিকী, রুমী সিদ্দিকী, ইব্রাহীম খলিলুর রহমান এবং মিয়া মালেক রেদোয়ান।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষকে ধরে এনে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ভেতরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হতাে। হত্যার পর মরদেহের স্তুপ সাজিয়ে গণকবর দেওয়া হতাে বর্তমান ভাস্কর্যটির নিচে। পরে সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞের স্মারক হিসেবে গণকবরের ওপরে এ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ভাস্কর্যটিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যা ও যুদ্ধের প্রস্তুতির চিত্র ফুটে উঠেছে। ভাস্কর্যটি দুটি অংশে বিভক্ত। এর এক অংশে রয়েছে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি আর অপর অংশে রয়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যার চিত্র।
ভাস্কর্যটির যে অংশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে বেদনার জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ২৫ মার্চের কালরাতকে। এ অংশে দেখানাে হয়েছে- এই রাতে ইয়াহিয়া খান মাতাল অবস্থায় আছেন, পাকিস্তানির হানাদাররা হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, গর্ভবতী মাকে অত্যাচার করে হত্যা করা হচ্ছে, মরদেহ ফেলে রাখা হচ্ছে যেখানে সেখানে। ভাস্কর্যের অংশ হিসেবে রয়েছে একটি পত্রশূন্য বৃক্ষ। তার ওপর একটি শকুন বসে আছে। এর দ্বারা সে সময়ে শ্মশান হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতীক বােঝানাে হয়েছে।
আর অপর অংশে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির চিত্র। বাংলার কামার, কুমার, জেলে, কৃষিজীবী মানুষ মােট কথা সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে লড়ছেন। দা, বটি, খুন্তি, কোচ, বর্শা সবকিছু নিয়ে যুদ্ধের মুখােমুখি হয়েছেন তারা। পরের অংশে দেখা যায়, সবাই আধুনিক অস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। যুদ্ধে নামার পর যখন যােদ্ধারা বুঝতে পারেন যে, পুরনাে পদ্ধতি দিয়ে তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব নয়, তখন সবাই প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন, যেখানে রয়েছে সব বয়সী নারী-পুরুষ। পরিপূর্ণ যুদ্ধের জন্য গেরিলা কৌশল, মাঝারি আকারের অস্ত্রের ব্যবহার শিখছেন তারা। ভাস্কর্যের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে প্রশিক্ষণ নেয়া সাহসী এক কৃষকের ছেলে। তার চোখে যুদ্ধজয়ের নেশা। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে সবার চোখে প্রতিশােধস্পৃহার ছাপ রয়েছে। ভাস্কর্যে সবার মাথা একটা সােজা, মুখ লালবর্ণের। এর কারণ রাগ হলে কালাে মানুষের চেহারাও লালবর্ণ ধারণ করে। আবার অন্যদিকে গণহত্যার দৃশ্যের রঙ ধূসর, কারণ এটি আমাদের বেদনাদায়ক স্মৃতি।
ভাস্কর্যটির নিচে রয়েছে পানি, যা দিয়ে নদীমাতৃক বাংলাদেশকে বােঝানাে হয়েছে। আর পানির ভেতরে রয়েছে বাংলা বর্ণমালা, যা দিয়ে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বােঝানাে হয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সফলতায় বাংলার মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার ভাবনা আসে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। আর শেষ হয় ১৯৯১ সালে। ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম খান এটি উদ্বোধন করেন। ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক দিয়ে ঢুকলেই সামনে পড়ায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা যে কারো প্রথমেই এটি চোখে পড়ে। এটি সকলকে একাত্তরের হানাদার বাহিনীর বর্বরতার সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানমের পদত্যাগ
- হাসপাতালে ডাক্তারের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ছোটগল্প ‘সা র স’ : আইরীন নিয়াজী মান্না
- ইনানী রিসোর্টে আগুন: নিহতদের ৬ জনের পরিচয় মিলেছে
- মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ভূতিয়ার বিলের ‘পদ্ম-শাপলা’
- ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানী বেড়ে ৭
- মুক্তি পেলেন নেহা বোরা
- তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণানুষ্ঠান শুরু আজ
- নরসিংদীতে শিয়ালের কামড়ে আহত ১০
- পূজায় অসুস্থতা এড়াতে যে বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকবেন
- পূজায় লোভনীয় নানা পদ
- ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, বাড়তে পারে গরম
- কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুন, ৫ জনের প্রাণহানী
- সাবিলা নূরের ৭ বছরের সংসার ভাঙনের গুঞ্জন!
- এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়: রুমিন
- চীন দেশ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: অধ্যাপক ডং ইউ ছেন
- বিশ্ববাজারে আরও কমল তেলের দাম
- দুর্গাপূজায় ছুটির আমেজ, স্কুল ১০ ও কলেজে ১৬ দিন
- রাজধানীর ফুটপাত হকারমুক্ত করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ
- আজ বিশ্ব বিড়াল দিবস: চাই মমতা ও নিরাপদ আশ্রয়
- অবসর নেওয়ার আগে দলে ফিরতে চান জাহানারা
- আজ মহাষষ্ঠী, সারা দেশে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব
- নারী শিশুসাহিত্যেক সংখ্যা: ‘কিশোর লেখা’র অনন্য আয়োজন
- যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা, ৩ শিশুসহ নিহত ৪
- বাজারে স্বস্তি নেই, চড়া দামে সবজি-চাল-ডাল
- নিউইয়র্কের আদালতে অভিযোগ, নির্দোষ দাবি মাদুরো দম্পতির
- আজ মহাসপ্তমী
- তিন বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা না কমার অভাস
- ছুটির দিনেও দূষণের কবলে ঢাকা, বিশ্বে তৃতীয়
- শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়ল


